দৈনিক সোজা সাপটা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদারকে ঘিরে সাম্প্রতিক

রুহুল আমিনে বিব্রত বিএনপি!



রুহুল আমিনে বিব্রত বিএনপি!
রুহুল আমিনে বিব্রত বিএনপি!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্কে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, তার কর্মকাণ্ডের কারণে ফতুল্লা থানা বিএনপি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন সিকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। 
‎সম্প্রতি ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম নেয়। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
‎১০ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার কুতুবপুর বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে বর্তমান পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সম্মতি ছাড়াই ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মো. চৌধুরীকে মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের নামও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন বলে অভিযোগ করেন।
‎মন্টু মিয়ার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতা ও মতামতের ভিত্তিতে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে বাইরের প্রভাব খাটিয়ে কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হলে তা মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, রুহুল আমিন সিকদার ফতুল্লা ইউনিয়নের ভোটার হলেও তিনি কুতুবপুর বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি নন এবং মসজিদের কোনো দাতা (ডোনার) হিসেবেও পরিচিত নন। তারপরও তিনি মসজিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন।
‎এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফতুল্লায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।
‎ফতুল্লা থানা এনসিপির নেতা আলিফ দেওয়ান বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
‎অন্যদিকে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি হাফেজ আব্দুল মোমিন বলেন, মসজিদকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব। কমিটি গঠনে যদি স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা না থাকে, তাহলে তা মুসল্লিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে।
‎এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ বলেন,‎ বিএনপি কোনো ব্যক্তির অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমর্থন করে না। অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল আমিন সিকদারের বক্তব্য জানার জন্য তাকে কল করলে তিনি প্রথমে কল রিসিভ করেন পরে সাংবাদিক শুনে কলটি কেটে দেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


রুহুল আমিনে বিব্রত বিএনপি!

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্কে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, তার কর্মকাণ্ডের কারণে ফতুল্লা থানা বিএনপি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন সিকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। 
‎সম্প্রতি ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম নেয়। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
‎১০ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার কুতুবপুর বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে বর্তমান পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সম্মতি ছাড়াই ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মো. চৌধুরীকে মসজিদ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের নামও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন বলে অভিযোগ করেন।
‎মন্টু মিয়ার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতা ও মতামতের ভিত্তিতে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে বাইরের প্রভাব খাটিয়ে কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হলে তা মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, রুহুল আমিন সিকদার ফতুল্লা ইউনিয়নের ভোটার হলেও তিনি কুতুবপুর বায়তুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি নন এবং মসজিদের কোনো দাতা (ডোনার) হিসেবেও পরিচিত নন। তারপরও তিনি মসজিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন।
‎এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফতুল্লায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।
‎ফতুল্লা থানা এনসিপির নেতা আলিফ দেওয়ান বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
‎অন্যদিকে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি হাফেজ আব্দুল মোমিন বলেন, মসজিদকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব। কমিটি গঠনে যদি স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা না থাকে, তাহলে তা মুসল্লিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে।
‎এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ বলেন,‎ বিএনপি কোনো ব্যক্তির অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমর্থন করে না। অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল আমিন সিকদারের বক্তব্য জানার জন্য তাকে কল করলে তিনি প্রথমে কল রিসিভ করেন পরে সাংবাদিক শুনে কলটি কেটে দেন।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
রুহুল আমিনে বিব্রত বিএনপি!
0:00 / 0:00
1x