দৈনিক সোজা সাপটা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি আদালতে

জনি হত্যার ঘটনায় মামলা



জনি হত্যার ঘটনায় মামলা
জনি হত্যার ঘটনায় মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে নিহত জনির মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মুন্নির পাশাপাশি তার আগের সংসারের ছেলে সৈকত, মেয়ে হাফসা, মা আমেনা বেগম, ভাই লিংকন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন ভোর রাতে জনি বাসায় ফেরার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে হাত-পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, হত্যার পর বাসার স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নিয়ে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়। সকাল ৮টার দিকে মুন্নি প্রতিবেশীদের ডেকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুন্নির আগের স্বামী ছিলেন দেলপাড়ার বাসিন্দা মিঠু, যিনি তৈরি পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের সংসারে সৈকত ও হাফসা নামে দুই সন্তান রয়েছে। পরে মুন্নি জনির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আগের সংসার ছেড়ে চলে আসেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরবর্তীতে জনি একটি হোটেলে চাকরি নেন। তাদের সংসারে বর্তমানে দেড় বছর বয়সী মুনতাসির নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, মুন্নির নামে থাকা জমিতে নির্মিত বাড়িতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ করে আগের সংসারের সন্তানদের নামে দেওয়ার জন্য জনির ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


জনি হত্যার ঘটনায় মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এদিকে নিহত জনির মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মুন্নির পাশাপাশি তার আগের সংসারের ছেলে সৈকত, মেয়ে হাফসা, মা আমেনা বেগম, ভাই লিংকন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন ভোর রাতে জনি বাসায় ফেরার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে হাত-পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, হত্যার পর বাসার স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নিয়ে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়। সকাল ৮টার দিকে মুন্নি প্রতিবেশীদের ডেকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুন্নির আগের স্বামী ছিলেন দেলপাড়ার বাসিন্দা মিঠু, যিনি তৈরি পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের সংসারে সৈকত ও হাফসা নামে দুই সন্তান রয়েছে। পরে মুন্নি জনির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আগের সংসার ছেড়ে চলে আসেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরবর্তীতে জনি একটি হোটেলে চাকরি নেন। তাদের সংসারে বর্তমানে দেড় বছর বয়সী মুনতাসির নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, মুন্নির নামে থাকা জমিতে নির্মিত বাড়িতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ করে আগের সংসারের সন্তানদের নামে দেওয়ার জন্য জনির ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।



দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
জনি হত্যার ঘটনায় মামলা
0:00 / 0:00
1x