দৈনিক সোজা সাপটা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় 'মেলা ফুড ভিলেজ' নামক একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি দোকানে তালা খুলে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ফতুল্লায় মেলা ফুড ভিলেজের ৫টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি



ফতুল্লায় মেলা ফুড ভিলেজের ৫টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি
ফতুল্লায় মেলা ফুড ভিলেজের ৫টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি

 চোরেরা কসমেটিক্স ও কাপড়সহ প্রায় ১৩ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা ও চুরিতে পরোক্ষ মদদের অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফতুল্লার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মেলা ফুড ভিলেজে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার ব্যবসায়ী হাসিব হোসেন (২৩) বাদী হয়ে মেলা ফুড ভিলেজের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মোঃ সিপন (৫২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে (বুধবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসিব হোসেনসহ মেলা ফুড ভিলেজের অন্যান্য দোকানদাররা প্রতিদিনের মতো নিজ নিজ পজিশনে মালামাল রেখে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। পরদিন ২১ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল অনুমান ৯টার দিকে তারা দোকানে এসে দেখেন, অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করেছে। চুরির কাজ শেষ করে অপরাধীরা যাওয়ার সময় বাইরে থেকে দোকানগুলো আবার তালাবদ্ধ করে রেখে যায়।


ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, চোরেরা নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে ৫টি দোকানের দামি মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। হাসিব হোসেনের কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকান থেকে ১১,০০০,০০ (এগার লক্ষ টাকা), কাকনের কসমেটিক্স দোকান থেকে ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা।রাফির কসমেটিক্স দোকান থেকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা।তামান্নার কাপড়ের দোকান থেকে অনুমান ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা।রোজা রুমির কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকান থেকে ২৯,০০০/- (উনত্রিশ হাজার) টাকা।সবমিলিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, চুরির বিষয়টি টের পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে মেলা ফুড ভিলেজের কর্তৃপক্ষ ও বিবাদী মোঃ সিপনকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এই বিপুল পরিমাণ চুরির ঘটনায় কোনো প্রকার কর্ণপাত না করে এবং আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ব্যবসায়ীদের সাথে টালবাহানা শুরু করে ঘুরাতে থাকে।


সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মেলা ফুড ভিলেজে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও চুরির ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল বলে দাবি করে মেলা কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ত্বকী হত্যা মামলার আসামী গত চব্বিশের আন্দোলনের পর গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সিপনের প্রত্যক্ষ ইন্ধন, পরামর্শ ও সহযোগিতায় অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন চোর এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে এবং সিসি ক্যামেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।


ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসিব হোসেন জানান, ঘটনার পর চুরির সঠিক রহস্য উদঘাটন এবং অন্যান্য দোকানদারদের সাথে আলোচনা করে সঠিক চোরদের নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টা করার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তারা এই চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে মালামাল উদ্ধার এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ফতুল্লায় মেলা ফুড ভিলেজের ৫টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

 চোরেরা কসমেটিক্স ও কাপড়সহ প্রায় ১৩ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা ও চুরিতে পরোক্ষ মদদের অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফতুল্লার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মেলা ফুড ভিলেজে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার ব্যবসায়ী হাসিব হোসেন (২৩) বাদী হয়ে মেলা ফুড ভিলেজের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মোঃ সিপন (৫২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে (বুধবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসিব হোসেনসহ মেলা ফুড ভিলেজের অন্যান্য দোকানদাররা প্রতিদিনের মতো নিজ নিজ পজিশনে মালামাল রেখে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। পরদিন ২১ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল অনুমান ৯টার দিকে তারা দোকানে এসে দেখেন, অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করেছে। চুরির কাজ শেষ করে অপরাধীরা যাওয়ার সময় বাইরে থেকে দোকানগুলো আবার তালাবদ্ধ করে রেখে যায়।


ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, চোরেরা নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে ৫টি দোকানের দামি মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। হাসিব হোসেনের কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকান থেকে ১১,০০০,০০ (এগার লক্ষ টাকা), কাকনের কসমেটিক্স দোকান থেকে ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা।রাফির কসমেটিক্স দোকান থেকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা।তামান্নার কাপড়ের দোকান থেকে অনুমান ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা।রোজা রুমির কসমেটিক্স ও কাপড়ের দোকান থেকে ২৯,০০০/- (উনত্রিশ হাজার) টাকা।সবমিলিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, চুরির বিষয়টি টের পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে মেলা ফুড ভিলেজের কর্তৃপক্ষ ও বিবাদী মোঃ সিপনকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এই বিপুল পরিমাণ চুরির ঘটনায় কোনো প্রকার কর্ণপাত না করে এবং আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ব্যবসায়ীদের সাথে টালবাহানা শুরু করে ঘুরাতে থাকে।


সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মেলা ফুড ভিলেজে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও চুরির ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল বলে দাবি করে মেলা কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ত্বকী হত্যা মামলার আসামী গত চব্বিশের আন্দোলনের পর গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সিপনের প্রত্যক্ষ ইন্ধন, পরামর্শ ও সহযোগিতায় অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন চোর এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে এবং সিসি ক্যামেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।


ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসিব হোসেন জানান, ঘটনার পর চুরির সঠিক রহস্য উদঘাটন এবং অন্যান্য দোকানদারদের সাথে আলোচনা করে সঠিক চোরদের নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টা করার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তারা এই চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে মালামাল উদ্ধার এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ফতুল্লায় মেলা ফুড ভিলেজের ৫টি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি
0:00 / 0:00
1x