বিগত সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতির সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
শুক্রবার (২২ মে) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী অর্থনীতি, ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশের বাজেট’ শীর্ষক পলিসি সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এম. সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এবং সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিল আইডিয়া প্রডিউসার দ্য পোস্ট।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে কোথায় সমস্যা হয়েছিল, কেন হয়েছিল—সেগুলোও সবাইকে বলতে হবে। দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু ব্যাংক মালিকের মানসিকতা ও জীবনযাত্রা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। একটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের মালিকপক্ষের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কেউ ৯৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ ৫৬ শতাংশে নামিয়ে আনাকেও সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতের অর্থ লুটপাটের পেছনে দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা বড় ভূমিকা রেখেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনারও ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে পেশাদারদের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান।
এ ছাড়া আগামী বাজেটে ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
পে-স্কেল, কালো টাকা সাদা করা ও অঘোষিত আয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামনে বাজেট। এর আগে এসব বিষয়ে কথা না বলাই ভালো। কিছু প্রশ্নের উত্তর বাজেট ঘোষণার মাধ্যমেই পাওয়া যাবে।
একই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেন, গত ১৭ বছর দেশের ভূগর্ভ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলার কারণে এখন তার খেসারত দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী সোমবার গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সরকারকে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জুনের মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব নতুন সৌরবিদ্যুৎ নীতিমালা ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া চালাতেই প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার চাপ সামলাতে হচ্ছে। এসময় তিনি জ্বালানির টেকসই বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যাংকার মামুন রশীদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে স্মরণ করে বক্তব্য দেন এম. নাসের রহমান। এছাড়া সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সেলিম জাহানসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
বিগত সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতির সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
শুক্রবার (২২ মে) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী অর্থনীতি, ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশের বাজেট’ শীর্ষক পলিসি সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এম. সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এবং সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিল আইডিয়া প্রডিউসার দ্য পোস্ট।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে কোথায় সমস্যা হয়েছিল, কেন হয়েছিল—সেগুলোও সবাইকে বলতে হবে। দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিছু ব্যাংক মালিকের মানসিকতা ও জীবনযাত্রা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। একটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের মালিকপক্ষের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কেউ ৯৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ ৫৬ শতাংশে নামিয়ে আনাকেও সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতের অর্থ লুটপাটের পেছনে দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা বড় ভূমিকা রেখেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনারও ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে পেশাদারদের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান।
এ ছাড়া আগামী বাজেটে ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
পে-স্কেল, কালো টাকা সাদা করা ও অঘোষিত আয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামনে বাজেট। এর আগে এসব বিষয়ে কথা না বলাই ভালো। কিছু প্রশ্নের উত্তর বাজেট ঘোষণার মাধ্যমেই পাওয়া যাবে।
একই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বলেন, গত ১৭ বছর দেশের ভূগর্ভ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলার কারণে এখন তার খেসারত দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী সোমবার গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সরকারকে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জুনের মধ্যে বিনিয়োগবান্ধব নতুন সৌরবিদ্যুৎ নীতিমালা ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া চালাতেই প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার চাপ সামলাতে হচ্ছে। এসময় তিনি জ্বালানির টেকসই বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যাংকার মামুন রশীদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে স্মরণ করে বক্তব্য দেন এম. নাসের রহমান। এছাড়া সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সেলিম জাহানসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন