উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সোজা সাপ্টা ডেস্ক, নারায়ণগঞ্জ ||
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার এই লজ্জাজনক ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউছার আশার সহধর্মিণী ইফফাত আরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্বে থাকাকালেও প্রতিষ্ঠানটির লেখাপড়ার মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেননি। বর্তমানে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন সংসদ সদস্য আবুল কালামের চাচাতো ভাই আনিছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তি ও পারিবারিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে এটি কার্যত একটি ‘ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজ শাখা থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র চারজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের চারজনের সবাই ফেল করেছে। এমন হতাশাজনক ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরেই পড়াশোনার কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। শিক্ষকরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করান না এবং অনেকেই সময়মতো উপস্থিত থাকেন না। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা পাঠদানের চেয়ে বাইরে ব্যক্তিগত কাজ কিংবা প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যে বেশি সময় দেন। ফলে তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে দিন দিন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।ক্ষোভ প্রকাশ করে এক অভিভাবক বলেন, "অনেক আশা-ভরসা নিয়ে মেয়েকে এই কলেজে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস করাননি, পরীক্ষার কোনো যথাযথ প্রস্তুতিও নেওয়া হয়নি। মাত্র চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে চারজনই ফেল করবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর দায়ভার কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদেরই নিতে হবে।"এ বিষয়ে নবীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই মজুমদার বলেন, "কলেজে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী ছিল, যার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ জন। এর মধ্যে ৩ জন নিয়মিত এবং ১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল।" তবে কেন এই ফল বিপর্যয় হলো, পাঠদানে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ওঠা নানান অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে সরাসরি এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন বলে তিনি জানান।