উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সাদনান আল নূর তিয়ান, নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক ||
সোজাসাপটা রিপোর্টজাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার নারায়ণগঞ্জের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। জেলার পাঁচটি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তাঁদের মধ্যে সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক সচিব, পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠজন এবং দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় নেতারাও রয়েছেন। কেউ কেউ অনুসারীদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত আলোচিত ব্যক্তিদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি।নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও ছেলে আবুল কাউসার আশার নাম বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও রাজনৈতিক সচিব খায়রুল ইসলাম সজীবকে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তাঁদের ঘিরে অনুসারীদের তৎপরতা থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার আরেকটি বড় জায়গা রূপগঞ্জ উপজেলা। সেখানে চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের নাম সামনে এসেছে। অতীতে জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই নেতা স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবদল ও মহিলা দলের কয়েকজন নেতার নামও ঘুরছে।আড়াইহাজারে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আখতার। তাঁরা দুজনই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক দূরত্বের বিষয়টি স্থানীয় আলোচনায় উঠে আসছে। নির্বাচনের আগে দলীয় অবস্থান ও নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় তাঁদের সম্ভাব্য প্রার্থিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।বন্দর উপজেলায় আবুল কাউসার আশার পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির অন্য নেতাদের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। অতীতে এই উপজেলায় বিএনপি-সমর্থিত নেতারা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আবুল কালামের ভাই আতাউর রহমান মুকুল দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবারও সংসদ সদস্যের পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের নাম আলোচনায় আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।সোনারগাঁয় খায়রুল ইসলাম সজীবের নাম আলোচনায় আসার পেছনে তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান অতীতে এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই পরিচিতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সজীব প্রার্থী হতে পারেন—এমন গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখের সন্ধানে রয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। দীর্ঘদিন উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের পর এবার দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন পেতে আগ্রহীদের মধ্যে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অতীতের বিভিন্ন বিতর্ক নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও দলীয় বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে এসেছে।দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে দেখছেন। তাঁদের কেউ কেউ অতীতের রাজনৈতিক ত্যাগ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে দলীয় সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠজনদের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে তৃণমূলের একাংশের মধ্যে আলোচনা ও নানা হিসাব তৈরি হচ্ছে।তবে প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সমর্থন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নারায়ণগঞ্জের পাঁচ উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনী মাঠে থাকবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর।