উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সাদনান আল নূর তিয়ান, নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক ||
টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকিব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং বিদেশে ভিসা ও বিমান টিকিট করে দেওয়ার কথা বলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. রবিউল ইসলাম মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ এবং একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রুবেল হাওলাদার।এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ধানমন্ডি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রুবেল হাওলাদার। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রুবেল হাওলাদারের সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম মিয়ার পরিচয় হয়। পরে ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথম ছয় মাসের ব্যবসায়িক লাভের অংশ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো লাভ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে রুবেলের পরিবারের সদস্যদের থাইল্যান্ডের ভিসা করে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।এ ছাড়া, একটি টয়োটা এসকয়ার হাইব্রিড- ২০১৯ মডেলের গাড়ি কেনাবেচা নিয়েও আর্থিক বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১২-৯৫০৭ বলে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটির মূল্য বাবদ অর্থ লেনদেন ও কিস্তির বিষয় জড়িত থাকলেও পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেননি। গাড়িটি অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া হলেও সেখান থেকে পাওয়া ভাড়ার অর্থও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রুবেল।এ ছাড়াও থাইল্যান্ডের ভিসা ও বিমান টিকিট করে দেওয়ার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা এবং দুবাই থেকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ থেকে দুবাই যাতায়াতের বিমান টিকিট করে দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।অভিযোগকারী দাবি করেন, সব মিলিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। লেনদেনের পক্ষে নগদ অর্থ, ব্যাংক চেক, লেনদেনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বিকাশ স্টেটমেন্টের তথ্য রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।রুবেল হাওলাদারের অভিযোগ, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার সময় নেন এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে দাবি করেছেন তিনি।এ অবস্থায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর পাওনা টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।