উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
সোজাসাপটা রিপোর্টনারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নতুন সড়ক নির্মাণ ও পুরোনো সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে উপজেলার প্রান্তিক এলাকার মানুষের যাতায়াত এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর উদ্যোগে এলাকার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তারাব, কাঞ্চন, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কায়েতপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং মানুষের দৈনন্দিন চলাচল সহজ করতেই এসব কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।রূপগঞ্জের অর্থনৈতিক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সড়কের গুরুত্ব অনেক বেশি। শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারকেন্দ্রিক এই উপজেলায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার অনেক মানুষকে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত করতে হয়। সড়কের অবস্থা ভালো না হলে এসব কাজে ভোগান্তি বাড়ে। নতুন সড়ক নির্মাণ ও পুরোনো সড়ক সংস্কারের মাধ্যমে সেই দুর্ভোগ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।বিশেষ করে তারাব, কাঞ্চন, ভুলতা ও গোলাকান্দাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে কায়েতপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নত হলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও এর সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।স্থানীয়দের দাবী, সড়ক উন্নয়নের সুফল পুরোপুরি পেতে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করা এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। একই সঙ্গে সড়কের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও যান চলাচলের উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হলে এসব অবকাঠামো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে জানান স্থানীয়রা।এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে। হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশকে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ শহর কিংবা ঢাকামুখী হতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ও সেবার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।তবে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে এসব সেবার সমন্বয় করা গেলে হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবা—দুটি ক্ষেত্রই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এসব উন্নয়ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতার ওপর রূপগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা অনেকটাই নির্ভর করছে। সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর উদ্যোগে নেওয়া কার্যক্রমগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।