উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
রফিউর রাব্বি বলেছেন, শেখ হাসিনা তার শাসনামলে সাড়ে ১১ বছর বিচার বন্ধ করে রেখেছিলেন। সে সময় ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জে আইয়ামে জাহেলিয়াত প্রতিষ্ঠা করেছিল। তখন বিএনপির অনেকে এই ওসমান পরিবারের সহযোগী হয়েছিল, অনেকেই তাদের মঞ্চে উঠেছে। আজকে ঘাতক ওসমান পরিবার পালিয়ে গেলেও তাদের সে সময়ে বিএনপির সহযোগীরা এখন তাদের ব্যবসা পরিচালনা সহ তাদের হয়ে নারায়ণগঞ্জে কাজ করে চলেছে। ওসমান পরিবার বিদেশে থেকে এদেরই মাধ্যমে এখন ত্বকী হত্যা মামলা বিলম্বিত করছে বলে আমরা মনে করছি। এরা তদন্তকারী সংস্থাকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে চলেছে।তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬৩ মাস উপলক্ষ্যে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (৮অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এ আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে রফিউর রাব্বি বলেন, আপনার দলের কারা ওসমান পরিবারের ছায়া হয়ে কাজ করছে তা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খবর নিন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ১০৬ টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও এখনো অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়ে বিচারকার্য কেন শুরু করা হলো না এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কে বাধা হয়ে দাঁড়ালো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আপনি বিচার শুরুর নির্দেশ দিন। তিনি আরও বলেন, আমরা সুশাসন চাই, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই, বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে এবং সহ সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আরও বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, মহিলা পরিষদের জেলা সংগঠক শাহানারা বেগম ও সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা। সমাবেশে বক্তারা হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং ক্যাডার শাহ নিজাম সহ হত্যায় জড়িত সকলকে অভিযোগপত্রে যুক্ত করে দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেয়ার দাবি জানাই। বক্তারা ত্বকী সহ সাগর-রুনি, তনু এবং নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার দ্বারা নিহত সকল হত্যার বিচার দাবি করেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।