উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
সোজাসাপটা রিপোর্টঢাকায় দায়িত্ব পালনের মধ্যেই হঠাৎ দিল্লি সফরে গেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রায় তিন দিনের সফরে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন তিনি। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।সোমবার ঢাকা ছাড়ার পর মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন ত্রিবেদী। ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মোদির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসলেন তিনি। ফলে আকস্মিক এ সফর এবং দিল্লিতে ধারাবাহিক বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।দিল্লির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং সামনের দিনগুলোতে সম্পর্ক কোন পথে এগোতে পারে—এসব বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নিয়োগের সময় থেকেই তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তাকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিষয়ে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য ও মতামত পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ত্রিবেদী। একই সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার বক্তব্যও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি ও এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে তার বক্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে।দিল্লিতে তার বর্তমান সফর নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বিশেষ করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় যে অবস্থান ও মনোভাব তিনি পেয়েছেন, তা দিল্লির নীতিনির্ধারকদের অবহিত করতেই এ সফর হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গলবার ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গেও বৈঠক করেন ত্রিবেদী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সহযোগিতার বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা আরও কার্যকর করার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সামরিক সম্পর্ক, অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং দুই দেশের চলমান সহযোগিতার বিষয়গুলোও উঠে আসে। এরপর ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।সফরের শেষ পর্যায়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন ত্রিবেদী। ফলে একই সফরে ভারতের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তার ধারাবাহিক বৈঠককে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সামনে রেখে দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৯০টি ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গ্রুপের বৈঠক সামনে রয়েছে।নয়াদিল্লিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বাণিজ্যবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে বলে জানা গেছে।সব মিলিয়ে ত্রিবেদীর দিল্লি সফরকে শুধু নিয়মিত কূটনৈতিক সফর হিসেবে না দেখে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যোগাযোগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে সফরে ঠিক কী কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।