উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
সব কাগজ দেখে বিষ্মিত হলেন জেলা প্রশাসক। বললেন, শামীম ওসমানকে ধরেন। এরপর আরও কয়েকজন দায়িত্ববান কর্মকর্তা একই কথা বললেন। অবশেষে আমি প্রশ্ন করলাম শামীম ওসমানকে। সব শুনে তিনি বললেন, আমিতো অথরিটি নই। ১৯৯২ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন তল্লা এলাকার বাসিন্দা নূর হোসেন। আজীবন চেয়ারম্যান থাকতে তিনি দুইজন সহজ সরল মানুষকে দিয়ে সীমানা সংক্রান্ত মামলা করান। ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকার বাসিন্দা কদর আলী ১৯৯৬ সালে প্রথম মামলাটি করেন। ২০০২ সালে হানিফ মাতবর নামে আরও একজন উচ্চ আদালতে রিট করেন। এ দুইজনেই এক সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেছেন, আমরা কিছুই জানিনা। নূর হোসেন চেয়ারম্যান আমাদের স্বাক্ষর করতে বলেছেন, আমরা করেছি। এ মামলার কারনে নির্বাচন প্রথমে আটকে যায়। যিনি আজীবন চেয়ারম্যান থাকবেন ভেবেছিলেন সেই নূর হোসেন চেয়ারম্যান ২০১১ সালে মারা যান। তখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন সারাহ বেগম কবরী। সেই সময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার লুৎফর রহমান স্বপন। এদিকে ২০১৬ সালে উচ্চ আদালত দু’টি মামলা খারিজ করে দিলেও নির্বাচন নিয়ে ভানুমতির খেলা চলে আরও অনেক বছর। ইতিমধ্যে ওই ইউনিয়নের ১৩ জন মেম্বার চেয়ারম্যানের মধ্যে মাত্র ৫ জন বেঁেচ ছিলেন।২০২১ সালের আগস্ট মাসে এক আওয়ামীলীগ নেতা একজন স্নেহভাজন সাংবাদিকের মাধ্যমে মামলা নেই আদালতের এমন কাগজ এবং সাবেক জেলা প্রশাসক-নির্বাচন কর্মকর্তার পাঠানো চিঠির কপি আমাকে দেন। আমি সেইসব কাগজপত্র নিয়ে আরটিভিতে এবং দৈনিক সংবাদচর্চায় সংবাদ প্রকাশ করার জন্য দেখা করি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর সাথে। তাকে প্রথম প্রশ্ন করি শামসুর রহমান সাহেব জেলা প্রশাসক ছিলেন কবে ? তিনি বোর্ডের তালিকা দেখে বলেন, অনেক আগে। আমি বললাম তখন তিনি ঊর্ধ্বতন মহলকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, ফতুল্লা ইউনিয়নের নির্বাচন হতে কোন বাধা নেই, মামলা নেই। এরপরেও নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। তাকে জানালাম, মেম্বার চেয়ারম্যান মিলে একটি ইউনিয়নে ১৩ জন থাকে। এ ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ মাত্র ৫ জন রয়েছে। তিনি সব কথা শুনে আমার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে ঢাকায় পাঠালেন। ফেরার সময়ে বললেন, একটু এমপি সাহেবকে (শামীম ওসমান) ধরেন। একইভাবে আমি তখনকার স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক এবং জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে গেলেও তারা শামীম ওসমানের নাম বললেন।কয়েকদিন পর জেলা প্রশাসনে শামীম ওসমান এসেছে শুনে আমি সেখানে যাই। তাকে বলি, ফতুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে আপনার ইন্টারভিউ নিবো। তিনি রাজি হলেন, আমি এবং আরও কয়েকজন ক্যামেরা রেডি করলো। বুম ধরলো তখন সবেমাত্র একটি টেলিভিশনে নিয়োগ পাওয়া একজন। আমি প্রথমে হালকা দু’টি প্রশ্ন করে আসল প্রশ্নে চলে গেলাম। শামীম ওসমানের কাছে আমার প্রশ্ন ছিলো--আপনি দীর্ঘ দিনের রাজনীতিক। ফতুল্লায় আপনার নিজস্ব একটা বলয় আছে, সেই বলয়ের অনেকেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান হতে চায়। কাকে রেখে কাকে দিবেন তা আপনি ডিসাইট করতে পারেন না, এ কারনে আপনিও নির্বাচনটা চান না। প্রশ্ন শুনে শামীম ওসমান প্রথমে বললেন, কি-- কি ? আমি পূণরায় ২ লাইন বলতেই তিনি উত্তর দেয়া আরম্ভ করলেন। শেষতক তিনি বললেন, আমিতো অথরিটি (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নই।আমার প্রশ্ন শুনে আমার পেছনে দাঁড়ানো এক সাংবাদিক হেসে দিয়েছেন। তার হাসির মানে হলো ঠিক জায়গায় হাত দিয়েছি। প্রশ্ন শেষে বুম ধরা ওই সাংবাদিক আমাকে বললো, ভাই আপনি শামীম ভাইকে এমন কড়া প্রশ্ন করলেন। আমি তাকে বললাম, আমি সাংবাদিকতা করতে এসেছি। প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর তৎপরতায় দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।