উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
সোজাসাপটা রিপোর্টনারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দোকান মালিক সমিতির এক সভাপতিকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার নিচতলায় ‘হাইমুন কসমেটিকস’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।মারধরের শিকার হাসান ইমামের বয়স ৭০ বছর। তিনি চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা। পাশাপাশি তিনি জেলা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি এবং সায়াম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দোকানটিতে প্রবেশ করছেন। পরে সেখানে হাসান ইমামকে কয়েকজন মারধর করছেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।ঘটনার সময় দোকানে উপস্থিত ছিলেন হাসান ইমামের ছোটভাই মো. জুয়েল। তিনি অভিযোগ করেন, টিপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী দোকানে প্রবেশ করেন। পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তার বড়ভাইকে দোকানের ভেতরেই মারধর করা হয়।জুয়েল বলেন, তার বড়ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নন। দোকান মালিক সমিতির দায়িত্ব পালনের বাইরে তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ তুলে একজন বয়স্ক ব্যবসায়ীকে এভাবে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।মারধরের পর হাসান ইমাম শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হাইমুন হাসান। তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে তার বাবা হঠাৎ করে কয়েকবার বমি করতে থাকেন। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে সকালে তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়।এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানান হাইমুন হাসান।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি দাবি করেন, হাসান ইমাম আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে সরাসরি না থাকলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির একজন অর্থদাতা। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলে তিনি অর্থায়ন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন টিপু।টিপুর ভাষ্য, হাসান ইমাম আজমেরী ওসমান ও শাহ নিজামের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং অতীতে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগও তিনি করেন। এসব বিষয়ে খবর পেয়ে তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে গিয়েছিলেন বলে জানান।মারধরের বিষয়ে টিপু বলেন, সেখানে উত্তেজনার মধ্যে কয়েকজন হাসান ইমামকে চর-থাপ্পর দিয়েছেন। তবে তিনি নিজেই তাদের থামিয়েছেন বলে দাবি করেন। তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসান ইমামের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সমর্থন পাওয়া যায়নি।এদিকে, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।ওসি বলেন, পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।