উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
সোজাসাপটা রিপোর্টশহরের ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসা হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারদের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরতে পারে, অন্যদিকে শহরের যানজটও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়কারী চাঁদাবাজেরা। সিন্ডিকেটটির কারণেই একাধিকবার হকার সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ও এর আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার হকার ব্যবসা করেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব অস্থায়ী দোকানে কেনাবেচা চলে। ফুটপাত, সড়কের কিনারা কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসা এসব দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে।হকারদের অভিযোগ, দোকানে আলো জ্বালানোর জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিলের নামে প্রতিদিন ৪০ টাকা করে নেওয়া হয়। অথচ এসব বৈদ্যুতিক সংযোগের বৈধতা নেই। রাস্তার পাশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তার টেনে একাধিক দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে শুধু হকারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগই উঠছে না, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্যও তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুটপাতের ওপর দিয়ে কিংবা খুঁটি ও অস্থায়ী স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে নেওয়া এসব সংযোগে কোথাও কোথাও তার এলোমেলোভাবে ঝুলতে দেখা যায়। বৃষ্টি কিংবা কোনো কারণে তার ছিঁড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা চলে আসলেও এর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ রয়েছে।শুধু বঙ্গবন্ধু সড়ক নয়, চাষাঢ়া, জিয়া হলসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকাতেও হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দোকানের ধরন, অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণও ভিন্ন হয়ে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন হকার। তবে ভয়ে তারা প্রকাশ্যে কারও নাম বলতে চান না।হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের শেষে বিক্রি থেকে সামান্য যে অর্থ হাতে থাকে, তার একটি অংশ বিভিন্ন নামে দিতে হয়। জায়গায় বসার বিনিময়ে চাঁদা, বিদ্যুতের নামে টাকা কিংবা অন্য কোনো খাতে অর্থ নেওয়া—সব মিলিয়ে হকারদের ব্যবসার খরচ বাড়ছে। ফলে পুনর্বাসনের মাধ্যমে বৈধ ও নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসার সুযোগ তৈরি হলে তার সুফল হকারদের পাওয়ার কথা থাকলেও চাঁদাবাজির কারণে সেই সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শহরের হকারদের একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগের কথা সামনে আসে। পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে দখলমুক্ত রেখে হকারদের জীবিকা নির্বাহের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে চাষাঢ়া থেকে দুই নং রেলগেট পর্যন্ত রেললাইনের পাশে জায়গাও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে ফুটপাত ছেড়ে সেখানে যেতে চান না হকাররা।হকারদের নেতা কে এম রনি জানান, রেলওয়ের জমিতে বসার বৈধতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এর ফলে এখনই শহরের হকাররা সেখানে যেতে চান না। এছাড়াও হকারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।শহরবাসীর প্রত্যাশা, হকারদের জীবিকার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে নাসিকের পুনর্বাসন উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে হকারদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে যারা অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।হকারদের পুনর্বাসন যদি বাস্তবায়ন করা যায় এবং একই সঙ্গে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে এর সুফল শুধু হকাররা নয়—শহরের পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও পাবেন। অন্যথায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ কাগজে-কলমে থাকলেও ফুটপাতের পুরোনো দখল ও চাঁদাবাজির চক্র ভাঙা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।