উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
তৈরি পোশাক শিল্প এখন কর্মহারানোর উচ্চ ঝুঁকির খাতে পরিণত হয়েছে। উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে এই শিল্পে ধারণার চেয়ে বেশি মানুষ কর্ম হারাচ্ছেন।সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক গবেষণায় এমনই আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় হোটলে শেরাটনে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও সানেমের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।দেশের উপকূলীয়, নদীবেষ্টিত ও শহরাঞ্চলের ৯টি জেলার ৬২৫ জন তরুণ শ্রমিকের ওপর জরিপ, সরাসরি সাক্ষাৎকার ও কর্মশালার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।গবেষণায় দেখা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহারে কর্মসংস্থান হারানোর পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডাটাবেজ না থাকা এবং নির্মাণ শ্রমিকদের মজুরি বা দুর্ঘটনার সুরক্ষার অভাব বড় সংকট তৈরি করছে।তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণ শ্রমিকরা তাদের চাহিদার কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, তারা পুনর্বাসন অনুদান বা স্টার্টআপ মূলধনের চেয়ে নগদ সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাকরি প্রাপ্তিতে সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। খাতভেদে চাহিদার ভিন্নতাও রয়েছে; যেমন নির্মাণ শ্রমিকরা নগদ সাহায্য চান, পোশাক ও পরিবহন শ্রমিকরা চাকরি পেতে সহযোগিতা চান, আর কৃষি শ্রমিকরা নগদ টাকা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় চান।আস্থার জায়গাতেও পার্থক্য স্পষ্ট, কৃষকরা সরকারের ওপর, পোশাক ও নির্মাণ শ্রমিকরা মালিকদের ওপর এবং পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ইউনিয়নের ওপর ভরসা রাখছেন, যা ঢালাও নীতির বদলে খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশের কম হলেও দেশটি জলবায়ু ঝুঁকিতে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। দেশের পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ এবং কৃষি খাতে মোট শ্রমশক্তির ৪১ শতাংশ নিয়োজিত থাকায় জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের কারণে এ দুটি খাতের তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।অনুষ্ঠানে সানেমের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, তরুণরা ঝুঁকিতে থাকলেও তারাই টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার সবচেয়ে উপযোগী শক্তি। সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে ‘ন্যায্য রূপান্তর’ বা জাস্ট ট্রানজিশন আলোচনায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সানেমের গবেষণাকর্মী ফারহান খান নীতি নির্ধারণে তরুণ শ্রমিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের তাগিদ দেন।অনুষ্ঠানের সভাপতি ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, সেটিকে বাস্তব কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং অনানুষ্ঠানিক ও নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জাতীয় ডাটাবেজে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার্থীদের মূল ধারার নীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।