উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকট দেশের পোশাকশিল্পে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তার দাবি, জ্বালানি সংকটে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক গার্মেন্ট কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে রপ্তানি কার্যক্রম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়েছে।শনিবার বিকেলে বিকেএমইএ কার্যালয়ে গ্যাস সংকটের প্রভাব ও শিল্পকারখানার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মোহাম্মদ হাতেম।বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন চালানো যাচ্ছে না। কোথাও আংশিক, আবার কোথাও পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিল্পখাতের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয়ও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।তার ভাষ্য, গ্যাসের অভাবে শুধু উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, বিদেশি ক্রেতাদের আস্থাতেও প্রভাব পড়ছে। ইতোমধ্যে কিছু রপ্তানি আদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নতুন অর্ডার পাওয়া নিয়েও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে যে ক্ষতি হচ্ছে তার একটি অংশ সরাসরি উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। আরেকটি বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বিদেশি ক্রেতাদের বিকল্প বাজার বেছে নেওয়ার মাধ্যমে। বিশেষ করে ইউরোপের ক্রেতাদের একটি অংশ পার্শ্ববর্তী দেশে অর্ডার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, “আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সমস্যা চলছে। এর মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ আগস্টের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সাময়িকভাবে দুই দিন কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও পরে আবার গ্যাসের চাপ কমে যায়। এতে কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকটের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য জানানোর দাবিও উঠেছে। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্প উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে না রেখে অন্তত সপ্তাহে একবার সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানানো প্রয়োজন।বৈঠকে গ্যাস সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানাগুলোকে সাময়িক স্বস্তি দিতে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা।তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরবর্তী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোনো কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।গ্যাস সংকটের মধ্যে কারখানাগুলো কীভাবে উৎপাদন চালাবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।এ ছাড়া সংকটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সরকারকে নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়া, গণপরিবহনে সিএনজি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।বৈঠকে বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার এবং সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল ও আশিকুর রহমানসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে শুধু উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও দুর্বল হতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।