উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। সম্ভাব্য ব্যয়, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে এরই মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে কমিশন।সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শীতকালকে ভোট আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে আগামী ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।নির্বাচন আয়োজনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত কার্যক্রমের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।বৈঠক শেষে আইজিপি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমন্বয় সেল গঠন নিয়ে সিইসির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের একটি সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনও জানিয়েছেন, দ্রুত সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এতে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের অন্যান্য প্রস্তুতিও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।ইসি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি, উপজেলা পরিষদে প্রায় ২ হাজার কোটি, সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩৩০ কোটি এবং পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। জেলা পরিষদের ব্যয় যুক্ত হলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, দেশে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর বাইরে ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ থেকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় হওয়ার পর ভোট আয়োজনের সময়সূচি আরও স্পষ্ট হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। দলীয়ভাবে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগও থাকবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রতীকবিহীন নির্বাচন কতটা দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতীক না থাকলেই নির্বাচন পুরোপুরি নির্দলীয় হয়ে যায় না। অতীতেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগতভাবে নির্দলীয় থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও প্রভাব নির্বাচনী মাঠে ছিল। এবারও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে।সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তার মতে, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিলেই হবে না, সরকারকে ভোট আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতীকবিহীন নির্বাচন যেন বাস্তব অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রভাব কিংবা দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে কোনো প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে।সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সূচনাকাল ধরে এগোলেও অর্থ ছাড়, নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত সময়সূচি। ফলে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন বাস্তবে কবে শুরু হয়, এখন সেই অপেক্ষাতেই সংশ্লিষ্টরা।