উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আবু সাউদ মাসুদ, সম্পাদক ও প্রকাশক ||
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আদালতে আইনজীবী নিয়োগ করতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুবাইয়ে মামলাও হয়েছে।ওই মামলায় লড়ার জন্য বেনজীর আহমেদ আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। এ অবস্থায় সেখানে মামলা লড়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও চলছে একজন আইনজীবী নিয়োগ করার প্রস্তুতি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।গত ১২ জুন দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ।পরে সেই খবর বাংলাদেশকে জানায় আমিরাত সরকার। তাঁকে ফেরত আনার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাঁকে ফেরত আনার কার্যক্রম চলছে।সূত্রটি জানায়, বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তারের পর নিজেকে তুরস্কের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং তিনি তুরস্কের পাসপোর্টও দেখান।তবে দুবাই পুলিশ তাঁকে বাংলাদেশি হিসেবেই শনাক্ত করে। প্রস্তাব পাঠানোর পর আমিরাত সরকার তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আইনি জটিলতা নিরসন করে তাঁকে বিশেষ বিমানে করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে দুবাইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় দেশটির আদালতে বিষয়টির নিষ্পত্তি এবং আদালতের অনুমতিক্রমে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ের আদালতে আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানিয়েছেন, দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে সেটি আদালতে উঠবে। আমরা যেটুকু জেনেছি তাতে বেনজীর আহমেদ আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদেরও আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে। যাতে আইনি মারপ্যাঁচে তিনি মুক্ত হয়ে যেতে না পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হওয়া এবং তাঁকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে ওই দেশের আদালতের অনুমতির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ই-মেইলের মাধ্যমে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে দেশে-বিদেশে বিপুল ভূ-সম্পত্তি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক শেয়ার কিনেছিলেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয় লুকিয়ে বিদেশ ভ্রমণের পৃথক অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে দুদকের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটির বিচার চলছে এবং বাকিগুলো তদন্তাধীন।