উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
Daily Soja Sapta, সম্পাদক ||
একসময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাকে বিএনপির শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে সেখানে দলের সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। স্থানীয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, বিদ্রোহী প্রার্থীতা এবং একাধিক হেভিওয়েট নেতার দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় ফতুল্লায় বিএনপির সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।দলীয় সূত্র ও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে জয়লাভ করলেও ফতুল্লা এলাকায় দলীয় প্রার্থী পরাজিত হন। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে।ফতুল্লার রাজনীতিতে এক সময় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন শাহ্ আলম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তার বহিষ্কারের পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির শক্তিশালী নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীদের একটি অংশ।এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে বহিষ্কার হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে জয়ী হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন।স্থানীয় রাজনীতিতে আরেক হেভিওয়েট নেতা মোহাম্মদ আলী দল ত্যাগ করার পর সংগঠনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়, যা ফতুল্লায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করেছে বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, জোট শরিকদের আসন ছাড় দেওয়ার কারণে ফতুল্লায় বিএনপি নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। তাদের মতে, দলীয় প্রার্থী থাকলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত এবং সংগঠন আরও শক্তিশালী থাকত।তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নন স্থানীয় ও জেলা বিএনপির নেতারা।ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বলেন, “ফতুল্লাকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হয় জনগণের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কারণে। একটি নির্বাচনের ফল দিয়ে পুরো রাজনৈতিক বাস্তবতা মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বিভিন্ন সময় প্রেক্ষাপটের কারণে ফল ভিন্ন হতে পারে। তৃণমূল এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীরা নিয়মিতভাবে কাজ করছেন এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “ফতুল্লা বিএনপির দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন ধারণার সঙ্গে আমি একমত নই। এটি ঐতিহাসিকভাবে দলের শক্ত ঘাঁটি। একটি নির্বাচনের ফল দিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্ধারণ করা যায় না।”তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে কিছু হেভিওয়েট নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তবে বিএনপির রাজনীতি কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট নেতার ওপর নির্ভরশীল নয়। বর্তমানে তৃণমূলকে আরও সুসংগঠিত করার কাজ চলছে এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফতুল্লায় বিএনপির ভেতরে নেতৃত্ব সংকট, অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং বিদ্রোহী রাজনীতি সংগঠনের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। তবে তৃণমূল সক্রিয় থাকলে ভবিষ্যতে দল আবারও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।