উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
Daily Soja Sapta, সম্পাদক ||
দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগও সামনে আসছে।সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরায় একসময়ের আলোচিত সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক ওরফে মাসুদ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় বাজারে অবস্থানকালে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি বালু ব্যবসা ও স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্বও এ হত্যার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।এর আগে একই উপজেলায় যুবদল কর্মী নাছির উদ্দীন এবং কাউসার উজ জামান বাবলু হত্যার ঘটনাও আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘাত চলছে।অন্যদিকে খুলনা নগরীতে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে ‘ঢাকাইয়া রফিক’কে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাজারে বসা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। একই জেলায় মসজিদের ভেতরে ফজরের নামাজ চলাকালে গুলির ঘটনায় আহত হন দুই মুসল্লি। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।রাজধানীতেও সহিংসতার ঘটনা থেমে নেই। পশ্চিম রামপুরায় নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন এক সময়ের আলোচিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ, যিনি ‘কাইল্লা পলাশ’ নামে পরিচিত। পুলিশ বলছে, পরিকল্পিতভাবেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।এর আগে মালিবাগ-মৌচাক এলাকার আনারকলি মার্কেটে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন হত্যাকাণ্ডও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, মার্কেটকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তার, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও সাংগঠনিক পদ-পদবি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, একই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও বর্তমানে সংঘাতের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যক্তিস্বার্থ, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার এবং অবৈধ সুবিধা ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব। রাজনৈতিক পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে বাহ্যিক বিষয় হলেও সংঘাতের মূল কারণ থাকে স্বার্থের লড়াই।তিনি বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারাও বলছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক কোন্দলের অভিযোগ উঠলেও তদন্তে ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কারণও সামনে আসে।এদিকে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং প্রায় ২৯০ জন আহত হয়েছেন। এর আগের মাস এপ্রিলেও রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ছিল উদ্বেগজনক।বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং প্রভাব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।