উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
Daily Soja Sapta, সম্পাদক ||
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রস্তুতি ও তৎপরতা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করলেও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পেতে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো— জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দলের জন্য ত্যাগ ও অবদান এবং প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা। এসব বিষয় মূল্যায়ন করেই দলীয় সমর্থনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ বাড়াতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন, তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন।স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের বেশিরভাগ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন। ফলে চূড়ান্ত সমর্থন কার পক্ষে যাবে তা নিয়ে তৃণমূলেও আলোচনা চলছে। অনেক ক্ষেত্রেই একেকটি ইউনিয়নে চার থেকে পাঁচজন পর্যন্ত নেতা চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। এজন্য আগেভাগেই বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ন্ত্রণে সাংগঠনিকভাবে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয় বাস্তবতা, জনসমর্থন ও এলাকার সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই দল সিদ্ধান্ত নেবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন এমন ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।অন্যদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দলের প্রতি অবদান ও জনগ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিকেই সমর্থন দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে মিত্র রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রতিও সমর্থন দেওয়া হতে পারে।নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা। তাই নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্ধারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সম্ভাব্য জোটগত সমঝোতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থী বাছাই ও সমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।