উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
Daily Soja Sapta, সম্পাদক ||
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ সক্রিয় থাকলেও সেগুলোর কোনোটিই তার ব্যক্তিগত বা অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এমনকি আইভী কখনো নিজ নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্টও খোলেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।সম্প্রতি কারামুক্তির পর তার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে আইভীকে নতুন করে আইনি জটিলতায় ফেলার চেষ্টা হতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নামে একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ চালু রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির অনুসারী সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। একটি পেজ সম্প্রতি ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সুবিধা পেয়েছে এবং সেটির অনুসারী সংখ্যা এক লাখেরও বেশি।এছাড়া তার নাম ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপও পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পেজ ও গ্রুপের বেশিরভাগই গত বছর আইভী গ্রেপ্তার হওয়ার পর চালু করা হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেগুলোর কার্যক্রম আরও বেড়েছে।আইভীর পরিবারের সদস্যরা জানান, সাবেক এই মেয়রের কোনো ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। তিনি কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেননি। ফলে তার নামে পরিচালিত কোনো অ্যাকাউন্ট বা পেজে প্রকাশিত বক্তব্য, মন্তব্য কিংবা প্রচারণার দায় তার ওপর বর্তাবে না।পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কোনো ভুয়া অ্যাকাউন্ট, পেজ বা গ্রুপ থেকে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা উস্কানিমূলক প্রচারণা চালানো হলে তার দায়ভার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।আইভীর সমর্থকরা বলছেন, জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এ ব্যাপারে কারামুক্ত সাবেক মেয়র আইভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ফেসবুকে কোন আইডি নেই। আপনারা সাংবাদিক অনুসন্ধান করে দেখুন এগুলো কারা করছে। এ বিষয়ে এর বাইরে আমার কোন বক্তব্য নেই। তবে প্রশাসনের প্রতি আহবান রাখছি, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিন।উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত ১২টি মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি নিজ বাসভবনে ফেরেন।ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন গঠনের পর প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী দুই নির্বাচনেও বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।